২১ আগস্ট খুলছে মেডিকেল কলেজগুলো, জাতীয় কমিটির সুপারিশ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষ ও পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রফ পরীক্ষা সামনে রেখে আগামী ২১ আগস্ট থেকে মেডিকেল কলেজগুলো খুলে দিতে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রস্তাবে ইতিবাচক মত দিয়েছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় অনুষ্ঠিত সভায় এমন মত দেওয়া হয়।
পরে তাদের এ সংক্রান্ত সুপারিশে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগ ২১/০৮/২০২১খ্রি. বা নিকটবর্তী যে কোনো তারিখ থেকে এমবিবিএস/বিডিএস কোর্সের ২য় বর্ষ ও পঞ্চম বর্ষ/শেষ বর্ষ এর ক্লাস চালুকরণের বিষয়ে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির মতামত চেয়ে পত্র প্রেরণ করেছে।
কমিটির সকল সদস্যরা এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ইতোমধ্যে এ সকল ছাত্র/ছাত্রীদের দুই ডোজ টিকা প্রদান করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনেচলা সাপেক্ষে প্রাথমিকভাবে এই দুই বর্ষের ক্লাস শুরু করার পক্ষে কমিটি মত প্রদান করেন।
ক. ক্লাস শুরুর আগে সকল ছাত্র/ছাত্রীদের সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের উপর প্রশিক্ষণ করাতে হবে।
খ. শতভাগ সঠিকভাবে মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করাসহ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে।
গ. হাসপাতালের ওয়ার্ডে ক্লাসে ছাত্র/ছাত্রীদের সঠিকভাবে সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
ঘ. ছাত্র/ছাত্রীদের সংক্রমণের উপর নজরদারি রাখতে হবে।
ঙ. সংক্রমিত ছাত্র/ছাত্রীদের চিকিৎসা/আইসোলেশন এবং তাদের সংস্পর্শে আসা ছাত্র/ছাত্রীদের ১৪ দিন কোয়ারিন্টেনের ব্যবস্থা করতে হবে।
এর আগে আজ শুক্রবার (১৩ আগস্ট) রাত পৌনে দশটার দিকে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেন মেডিভয়েসকে বলেন, এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষ ও পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রফ পরীক্ষা সামনে রেখে আগামী ২১ আগস্ট থেকে দেশের মেডিকেল কলেজগুলো খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। করোনায় মেডিকেল শিক্ষাকে সেশনজটমুক্ত রাখতে ধারাবাহিক কাজের অংশ হিসেবে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির কাছে এ প্রস্তাব দিয়েছে তারা। এ ব্যাপারে কমিটির মতামত এবং এ অনুসারে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ওই দুই ব্যাচের জন্য কয়েক মাসের জন্য মেডিকেল কলেজগুলো খুলে দিতে চায় অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘২১ আগস্ট মেডিকেল কলেজগুলো খুলে দেওয়ার ব্যাপারে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির মতামত চাওয়া হয়েছে। এ নিয়ে কমিটির কোনো সিদ্ধান্ত এখনো পাইনি। আমরা খুলে দিতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘২১ আগস্ট মেডিকেল কলেজগুলো খুলে দেওয়ার ব্যাপারে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির মতামত চাওয়া হয়েছে। এ নিয়ে কমিটির কোনো সিদ্ধান্ত এখনো পাইনি। আমরা খুলে দিতে চাই।’
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘এটা আমাদের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। মেডিকেল কলেজ আমরা পুরোপুরি বন্ধ রাখিনি। আমরা পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে নিয়ে এসেছি। তারা পরীক্ষা দেওয়ার পর আবার ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গেছে। করোনার এই সময়ে একসঙ্গে সবাই ক্যাম্পাসে সবাই ছিল না। পরীক্ষার আগে আগে এসেছে। কিছু দিন ক্লাস হওয়ার পর তারা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে, তারপর চলে গেছে। এভাবে আমরা ধারাবাহিকভাবে পরীক্ষা নিয়েছি।’
‘এ ধারাবাহিকতায় সামনে আরও দুটি ব্যাচের প্রফ পরীক্ষা হবে। একটি ব্যাচ ২০-২১ সেশনের। আরেকটি ব্যাচ যারা ফাইনাল প্রফ দেবে। পরীক্ষা সামনে রেখে আমরা চাচ্ছি, তাদেরকে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসতে। যাতে তারা প্রয়োজনীয় ক্লাস করে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে। এতে মেডিকেল শিক্ষা সেশনজট মুক্ত থাকবে। কারণ সেশনজট হলে দেশে চিকিৎসক শূন্যতা তৈরি হবে’,—যোগ করেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ডিজি।
নব্বই ভাগের বেশি শিক্ষার্থীর টিকা গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পরীক্ষা দিতে যারা ক্যাম্পাসে আসবে, তারা আগের মতোই ধারাবাহিকভাবে ক্লাস করবে এবং পরীক্ষায় অংশ নেবে। তাদের থিওরিটিক্যাল ক্লাস হয়ে গেছে, ৩/৪ মাস প্র্যাকটিকেল হবে, এর পর পরীক্ষা। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবই কারিগরি পরামর্শক কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে।
প্রস্তাবনায় নির্দিষ্ট কোনো সময়োল্লেখ করেছেন কিনা—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রস্তাবনা হলো, নির্দিষ্ট দুই ব্যাচের জন্য আমরা ২১ আগস্ট থেকে ক্যাম্পাস খুলে দিতে চাই। তারা যে মতামত দেবে, সেটার ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত দেবে। কমিটির ইতিবাচক মত পেলে খোলা হবে, তা না হলে খুলবো না।’
মেডিকেল শিক্ষার্থীদের বিষয়ে অধিদপ্তর সব সময় সচেতন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সংকটের মধ্যেই মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষা হয়েছে। ক্লাসও শুরু হয়ে গেছে। ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। সব জায়গাতেই আমরা অগ্রসর আছি। কোনো বিষয়েই আমরা তাদেরকে পিছিয়ে রাখিনি। এখনো একটি গ্রুপ পরীক্ষা দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে যারা পরীক্ষা দেবে, তাদেরকে কলেজে নিয়ে আসতে চাই।’
কলেজ খোলার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কোনো সিদ্ধান্ত এলে প্রজ্ঞাপন আকারে জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও এ সময় জানান অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেন।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এর পর গত ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং ২৬ মার্চ থেকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এরপর লকডাউন তুলে দেওয়া হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়। এর মধ্যে গত ১৩ জুন থেকে স্কুল-কলেজ খোলা এবং শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে করোনা পরিস্থির অবনতি হওয়ায় ছুটির মেয়াদ আরও বাড়ানো হয়। সর্বশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত বাড়ায় সরকার।
-
২০ অগাস্ট, ২০২১
-
১৩ অগাস্ট, ২০২১